কবি তরুণদের দলভুক্ত হতে চেয়েছেন কারণ তারা সকল ধর্মের, সকল দেশের, সকল জাতির ও সর্বকালের হয়ে মানবকল্যাণে কাজ করে থাকে।
ঘুণেধরা সমাজকে বসবাসের উপযোগী করে সুখ-সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে তরুণেরা কুসংস্কার, অনাচার ও বার্ধক্যের মূলোৎপাটন করে। জাতিকে স্বপ্নময় নতুন সমাজ উপহার দিতে তারা জীবন পর্যন্ত বিসর্জন দেয়। এভাবে অন্ধকারকে দূর করে জগৎকে আলোকিত করে বলেই তাদের আদশ হিসেবে গ্রহণ করে কবি তরুণদের দলভুক্ত হতে চেয়েছেন।
Related Question
View Allগানের পাখিকে তাড়া করে বায়স-ফিঙে।
উদ্ধৃতাংশে ধ্যানী বলতে মূলত যাঁরা অন্তরালে থেকে সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে প্রেরণা ও দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন তাঁদের বোঝানো হয়েছে।
তরুণদের এক সভায় আমন্ত্রিত হয়ে প্রাবন্ধিক তারুণ্যের জয়গান করে ভাষণ প্রদান করেন। সে সভায় তিনি দৃপ্তকণ্ঠে উচ্চারণ করেন, যৌবনশক্তি সংকীর্ণ জাতিগত ধর্মের মধ্যে সীমিত নয়; তা বিশ্বজনীন উদার মানবধর্মের ব্রতে আত্মনিষ্ঠ। মানবকল্যাণে নিবেদিত এ তরুণেরা বড়ো বড়ো কথা বলে আস্ফালন করে বেড়ায় না, বরং নীরব সাধনায় ফুল ফোটানোর মতো সুকঠোর ব্রত পালন করে। তরুণদের এ সাধনাকে ধ্যানের সঙ্গে তুলনা করা যায়। প্রাবন্ধিক তাই বলেছেন, তিনি আজ তাঁদেরই দলে, যাঁরা কর্মী নন, ধ্যানী।
উদ্দীপকের ফারুক সাহেবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে বর্ণিত যৌবনের মাতৃরূপের প্রতিফলন ঘটেছে।
তরুণদের সমাজসেবামূলক কাজকে প্রাবন্ধিক যৌবনের মাতৃরূপ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। মা যেমন সন্তানকে সমস্ত অকল্যাণ থেকে আগলে রাখে তেমনই যৌবন মাতৃরূপে মানবসমাজকে ধ্বংস থেকে রক্ষা করতে চেষ্টা করে। মায়ের মতো স্নেহ ও মমতা নিয়ে যৌবনধর্ম দুর্বল ও দুর্দশাগ্রস্তের পাশে দাঁড়ায়। উদ্দীপকের ফারুক সাহেবের কর্মকাণ্ডে যৌবনের এ কল্যাণকামী বৈশিষ্ট্যই লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকের ফারুক সাহেব যৌবনধর্মে উদ্দীপ্ত হয়ে সমাজের কল্যাণে আত্মনিবেদন করেছেন। মানবতাবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি বাল্যবিবাহ রোধে ভূমিকা রাখেন এবং মেয়েদের স্কুলে পাঠান। এভাবেই তিনি দুর্বলের ও অসহায়ের পাশে দাঁড়িয়ে নিজের কর্তব্য সাধন করেন। তার এ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে বর্ণিত যৌবনের মাতৃরূপটি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। অবসরপ্রাপ্ত ফারুক সাহেব বয়সের জালে বন্দি হলেও মনকে অবমুক্ত করে রেখেছেন। তিনি রাস্তার দুধারে গাছ লাগান, রাস্তার গর্ত ভরাট করেন। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে পাঠানোসহ বিভিন্ন কল্যাণমূলক কাজে অংশগ্রহণ করেন। মানবকল্যাণে কাজ করতে তার কোনো ক্লান্তি নেই। 'যৌবনের গান' প্রবন্ধেও এসব কর্মকাণ্ডের মানসিকতাকে তারুণ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
যৌবনের গান' প্রবন্ধের চেতনানুযায়ী অফুরন্ত প্রাণশক্তি উদ্দীপকের বয়স্ক ফারুক সাহেবের মাঝে লক্ষ করা যায়।
'যৌবনের গান' প্রবন্ধে কবি কাজী নজরুল ইসলাম দুরন্ত-দুর্বার যৌবনের জয়গান গেয়েছেন। যৌবন মানুষের জীবনকে গতিশীল, সেবাব্রতী ও প্রত্যাশাময় করে তোলে। কাজী নজরুল ইসলামের মতে, যৌবনকে বয়স দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা যায় না। একজন ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তিও প্রাণশক্তির দিক থেকে যৌবনপ্রাপ্ত হতে পারে। আবার বয়সে তরুণ একজন ব্যক্তি যৌবনের উর্দির নিচে বার্ধক্যের কঙ্কালমূর্তিকে ধারণ করতে পারে। মূলত মানুষের প্রাণশক্তি ও কর্মোদ্যম দ্বারাই যৌবন বা বার্ধক্য নির্ধারিত হয়।
উদ্দীপকের ফারুক সাহেব বয়সে বৃদ্ধ হলেও চিন্তা-চেতনা ও কর্মের দিক থেকে যুবক। কর্ম থেকে অবসর নিলেও তিনি বিভিন্ন ধরনের যৌবনের গান' প্রবন্ধে যৌবনের যেসব বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে, উদ্দীপকের ফারুক সাহেবের মধ্যে তার সবই বিদ্যমান। আলোচ্য প্রবন্ধানুসারে বয়স দ্বারা নয়; বার্ধক্যকে সংজ্ঞায়িত করা হয় রক্ষণশীলতা, জড়তা, সংস্কারাচ্ছরাতা ও পশ্চাৎপদতা দ্বারা। আর যার মধ্যে এসব বৈশিষ্ট্য থাকে না, তাকে বয়স বেশি হওয়া সত্ত্বেও 'বার্ধক্য আক্রান্ত' বলে অভিহিত করা যায় না। তাই 'যৌবনের গান' প্রবন্ধ অনুসারে, ফারুক সাহেবের বার্ষকাকেও বয়সের ফ্রেমে বেঁধে রাখা সম্ভব হয়নি।
বনের পাখির মতো গান করা কবির স্বভাব
উদ্দীপকের যৌবনের অপ্রতিরোধ্য রূপটি 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে ফুটে উঠেছে।
'যৌবনের গান' প্রবন্ধে প্রকাশ পেয়েছে তারুণ্যের অপ্রতিরোধ্য, উদ্দাম রূপ। প্রাবন্ধিকের মতে, তরুণ তারাই যাদের শক্তি অপরিমাণ, গতিবেগ ঝঞ্ঝার মতো, তেজ সূর্যের মতো। বিপুল যার আশা, ক্লান্তিহীন যার উৎসাহ, বিরাট যার ঔদার্য, অফুরন্ত যার প্রাণ, অটল যার সাধনা, মৃত্যু যার মুঠিতলে সে-ই তরুণ। তরুণদের মাঝে থাকে এক দুরন্ত-দুর্বার শক্তি।
আলোচ্য উদ্দীপকে যুবকদের উদ্দামের পরিচয় দেওয়া হয়েছে। তারা ফাঁসির রজ্জু দেখে মৃত্যুভয়ে কম্পিত হয় না, তাদের গতিবেগ অপ্রতিরোধ্য। স্থিরতা, বীরত্ব, গাম্ভীর্য, ধর্মভয় বা বিনয়জ্ঞান তাদের নেই। সবকিছু ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে তারা পাগলের মতো, বাবুদের মতো, বাষ্পীয় ইঞ্জিনে আবদ্ধ শক্তির মতো ছুটে চলে। আলোচ্য প্রবন্ধে বর্ণিত যৌবনের ধারক অর্থাৎ যুবকের মধ্যেও এসব বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। এ প্রবন্ধের বক্তব্য অনুযায়ী যারা সব বাধা অতিক্রম করে মৃত্যুকে হাতে নিয়ে হাসিমুখে সামনে এগিয়ে যায় তারাই যুবক- জয়মুকুট তাদেরই প্রাপ্য। উদ্দীপকটিতে 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের যুবকের মধ্যে বিরাজমান উদ্দাম, অপ্রতিরোধ্য যৌবনধর্মই প্রকাশ পেয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!